আমাদের জীবনের কয়েকটি পর্যায়

‘’তোমরা জেনে রাখ যে, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। এর উপমা হল বৃষ্টির মত, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়-কুটায় পরিণত হয়। আর আখিরাতে আছে কঠিন আযাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।’’ সূরা হাদিদ:...

আখিরাতের জন্য পরিকল্পনা করা

জানেন, আমরা এটা থেকে কি শিখলাম? কোন কিছুকে বড় করে দেখলেই সেটা বড় ব্যাপার হয়ে যায়। কোন কিছুকে ছোট করে দেখ তাহলেই সেটা সামান্য মনে হবে। জানেন, এই আয়াতে আখিরাতকে বড় এবং দুনিয়াকে ছোট করে দেখানো হয়েছে।পুরো আয়াতটা এটা নিয়েই। দুনিয়াতে আমরা জীবন যাপন করবো। আমাদের ক্যারিয়ার হবে।আমাদের শিক্ষাগত অর্জন থাকবে।আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এই সব কিছুই জীবনে থাকবে।কিন্তু একটা ব্যাপার কি জানো এই সব কিছু ক্ষণস্থায়ী। সব কিছুই। একদিন আসবে যেদিন এক জমায়েত হবে।এবং সেদিন তারা নামায পড়বে। আর সেদিন তারা একটা ঘোষণা দিবে।যে একটা জানাযা হবে। এবং এই ঘোষণাটা একদিন হবে আমার জন্য এবং একদিন হবে আপনার জন্য। এটা হতে যাচ্ছে এবং একদিন মানুষ আমাদের জন্য জানাজার নামায পড়বে। এবং ততক্ষনে আমরা চিরকালের জন্য চলে গেছি। এবং এটা শীঘ্রই ঘটবে, দেরীতে নয়। আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের জীবনের অনেকখানি তো ইতোমধ্যেই কেটে গেছে। সুতরাং এমন নয় যে সেই দিনটা থেকে আমরা দূরে যাচ্ছি, বরং আমরা সেই দিনের আরো কাছে পৌছাচ্ছি। তাই যত তাড়াতাড়ি আমরা এটা আত্মস্থ করি যে, আল্লাহর কাছে যা আছে তা তুলনামূলক ভাবে ভালো। কারন যে কোন ভাবেই হোকনা কেন আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। তাহলে আমরা নিজেরা নিজেদেরই উপকার করব । যদি আমরা শুধু এটা শিখতে পারি যে কিভাবে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হয়। যেমনটা আমি বললাম যে আমরা ১০ বছরের পরিকল্পনা করি, ১৫ বছরের পরিকল্পনা করি।কিন্তু আমরা আখিরাতের কথা চিন্তাই করিনা। তাহলে আখিরাতের কথা কিভাবে ভাবা উচিত? কিভাবে আখিরাতের জন্য বাস্তবতা ভিত্তিক পরিকল্পনা করা যায়? আখিরাতের জন্য আমরা ১০ বছরব্যাপী, ১৫ বছরব্যাপী পরিকল্পনা করিনা। আমরা এর জন্য দৈনন্দিন পরিকল্পনা করি। এটা দীর্ঘ সময়ব্যাপী লক্ষ্য নির্ধারণ করা নয়। এটা আজকের দিনটা আপনি কিভাবে ব্যয় করলেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট। আপনি তার পরে কি করতে যাচ্ছেন এটা তার সাথে...

শবে ক্বদর

আমি আমার নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, লাইলাতুল ক্বদরের সুযোগ গ্রহণ করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আল্লাহ এই রাতের জন্য একটি বা দুইটি আয়াত নয় বরং কুরআনের সম্পূর্ণ একটি সূরা উৎসর্গ করেছেন। আর এটাও যদি যথেষ্ট না হয়, তিনি আবার চুয়াল্লিশ নাম্বার সূরা, সূরা আদ-দুখানের প্রথম প্যাসেজ এই রাতের জন্য উৎসর্গ করেছেন। সুতরাং এটা ছোট কোনো বিষয় নয়। ইসলামে অন্য অনেক দিন বা রাতের স্পেশাল মর্যাদা আছে। কিন্তু অন্য কোনো দিন বা রাতের জন্য এভাবে একটি সম্পূর্ণ সূরাকে উৎসর্গ করা হয়নি। তাই এই রাতের সুযোগ গ্রহণ করার জন্য আমাদের দৃঢ় প্রচেষ্টা চালানো জরুরি। …………….. লাইলাতুল কদরের প্রথম উপকারিতা – لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ – “শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” কেউ কেউ এই হাজার মাসকে আক্ষরিক অর্থেই নিয়েছেন এবং গণনা করে বের করেছেন যে, এক হাজার মাস = ৮৩ বছর ৪ মাস। এতো মূল্যবান এই রাত! সুতরাং আজ যদি শবে ক্বদর হয় আর আপনি ফজরের নামাজ আদায় করেন তাহলে আপনি ৮৩ বছরের জন্য ছুটি নিতে পারেন। 🙂 না, না, এটা এমন নয়। এই আয়াতের অর্থ এটা নয়। আরেকটি ব্যাপার যেটা লক্ষ্যণীয়…আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন পরিমাপে সময়ের উল্লেখ করেন যেমন – আল্ফ়া সানাতিন বা হাজার বছর। মাঝে মাঝে তিনি এর সাথে যোগ করেন – “মিম্মা তা’উদ্দুন” তোমাদের গণনার হিসেবে। অন্য কথায়, এই আয়াতে এই অর্থটাও এখানে সুপ্ত আছে যে, তোমাদের গণনার হিসেবে হাজার মাস থেকেও এই রাত উত্তম। হাজার মাস মূলত একটি জীবনকালের সমান। আশি বছরের কিছু বেশি মূলত একজন স্বাভাবিক মানুষের আয়ুষ্কাল। সুতরাং আল্লাহ বলছেন যে তোমাদের গণনার হিসেবে এই রাতটি গোটা একটি জীবনকালের চেয়েও উত্তম। এই রাতটি কাজে লাগাও তাহলে তুমি গোটা একটি জীবনকাল কাজে লাগালে। এই রাতটি এতো অভিজাত, মহীয়ান এবং শক্তিশালী...

জান্নাতের দরজা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমি আপনাদের সাথে এই সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে সুরা সোয়াদ এর কিছু ভাবনা নিয়ে আলোচনা করব। এটি কুরআনের ৩৮ তম সুরা। আর এর পরের সুরা হচ্ছে সুরা জুমার। এই দুই সুরার শেষেই আল্লাহ বেহেশত সম্পর্কে খুব সুন্দর কিছু উল্লেখ করেছেন, যা এখন আমি আলোচনা করব। আল্লাহ আজ ওয়াজাল সুরা সোয়াদে বলেছেন, “জান্নাতের বাগান সমূহ ( যা আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন) এর দরজাগুলো তাদের জন্যে খোলা রাখা হয়েছে, (আরবিতে মুফাত্তাহা মানে এমন কিছু যা খোলে ধরে রাখা হয়েছে এবং কেউ একজন এর ধরে রাখার দায়িত্বে আছে)। এবং যেভাবে আল্লাহ এটি বর্ণনা করেছেন যে, জান্নাতের দরজা ইতিমধ্যে খোলে ধরে রাখা হয়েছে। এটি কিয়ামতের দিন খোলা হবে না। এটি ইতিমধ্যে খোলে ধরে রাখা হয়েছে। মুফাত্তাহা আর মাফতুহা এ দুটি আলাদা শব্দ। আরবিতে মাফতুহা মানে দরজা খোলা। আর মুফাত্তাহা মানে, দরজা প্রশস্তভাবে খোলে ধরে রাখা। এখন চিন্তা করুন, আপনার অনুমান শক্তিকে কাজে লাগান। যখন দরজা বন্ধ থাকে, তাদেরকে দরজার বাইরে দাড়াতে হবে, ঘণ্টা বাজাতে হবে, দরজায় কড়া নাড়তে হবে, অপেক্ষা করতে হবে দরজা খোলার জন্যে এবং তারপরেই তারা ঢুকতে পারে। যখন আপনি আপনার অতিথির সুবিধার জন্যে খুব বেশি উদ্বিগ্ন থাকবেন, তখন আপনি কি করবেন? আপনি দরজা খোলে রাখবেন। এরপরেও আপনার অতিথি দরজা অর্ধেক খোলা দেখে হয়তো ভাবতে পারে যে, আমি জানি না আমাকে হয়তো ঘণ্টা বাজাতে হবে, ঘরে ঢোকার জন্যে অনুমতি নিতে হবে যেরকম আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা যারা বিশ্বাস কর, তারা অন্যের ঘরে ঢুকো না যতক্ষণ না অনুমতি পাও”। (সুরা আন-নুর:২৭)। এখন, তৃতীয় আরেকটি অবস্থার কথা চিন্তা করুন। ধরুন, আপনি কাউকে দায়িত্ব দিলেন যেমন কোন বাচ্চা অথবা যে কেউ। আপনি দায়িত্ব দিলেন আপনার বাসার দরজা খোলে ধরে থাকার জন্যে এবং আপনার অতিথিদেরকে স্বাগতম জানানোর জন্যে যখন তারা আপনার...